শিলিগুড়ির আদালতে ‘জয় শ্রীরাম’স্লোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের এজলাসে হিজাব পরা এক নারী বিচারককে দেখে এক অভিযুক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতকক্ষের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

আইনজীবীদের একাংশ ঘটনাটির নিন্দা করলেও অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা আদালতকক্ষেই ক্ষমা চেয়ে দাবি করেছেন, এটি বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সংশ্লিষ্ট সূএ, বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর এজলাসে অভিযুক্তদের নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় তাদের একজন বিচারকের হিজাব দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে ওঠেন বলে অভিযোগ।

এরপরই আদালতকক্ষে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্তদের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা সেখানেই ক্ষমা চান।
ঘটনাটির সূত্র ২০১৮ সালের একটি মামলায়। সে সময় একটি আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ওই মামলার সূত্রপাত হয়। পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। পরে অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়। শুনানির জন্য মামলার অন্য অভিযুক্তদেরও আদালতে ডাকা হয়েছিল।

নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময়ই ওই স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার। তিনি বলেন, আদালতকক্ষে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আদালত চাইলে এ ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাও হতে পারত।

অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায় বলেন, আদালত ধর্ম, রাজনীতি ও অন্যান্য বিতর্কের ঊর্ধ্বে নিরপেক্ষ বিচারের জায়গা। সেখানে কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান কিংবা মন্তব্য করা উচিত নয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা ও নিন্দা জানিয়েছেন।

আদালতকক্ষের নির্দিষ্ট প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী এবং পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী। তার বক্তব্য, আদালতে বিচারক কিংবা বিচারপ্রার্থীর পোশাক দেখে কোনো মন্তব্য করা যায় না। তার মতে, পোশাক দেখে যদি ওই স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু ভুল নয়, অপরাধও।

তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে কাকতালীয় উল্লেখ করে বলেন, অনেকেই সম্ভাষণের সময় ‘জয় শ্রীরাম’, ‘রাধে রাধে’ বা এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন। নাম ধরে ডাকার সময় অভিযুক্তদের একজন না বুঝেই ‘জয় শ্রীরাম’ বলে ফেলেছেন বলে দাবি তার।

ত্রিদিব সাহার দাবি, ওই স্লোগান বিচারককে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়নি। তবু ঘটনার জন্য তিনি এবং তার পক্ষের অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতকক্ষে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বিচারকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য বা আদালতের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত কোনো আইনি পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন।

খুলনা গেজেট/উউরা




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন